Warning: Use of undefined constant jquery - assumed 'jquery' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/lawinfob/public_html/wp-content/themes/newsstar/functions.php on line 28
নাবালকের চুক্তি! - Law Info

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২০ অপরাহ্ন

নাবালকের চুক্তি!

minor
minor

নাবালক কে?

বাংলাদেশে প্রচলিত চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার, আদালত কর্তৃক কোন নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত থাকলে উক্ত নাবালকের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক হিসেবে গণ্য হবেন।

চুক্তি আইন অনুযায়ী নাবালকের আইনগত অবস্থানঃ

নাবালকের চুক্তির দায়-দায়িত্বঃ নিম্নে নাবালকের চুক্তির দায়-দায়িত্ব আলোচনা করা হলো-

১। নাবালকের চুক্তি শুরুতেই বাতিলঃ ব্যতিক্রম ছাড়া একজন নাবালকের চুক্তি শুরুতেই বাতিল বলে গণ্য।

২। নাবালকের মঙ্গলের জন্য চুক্তিঃ কোন নাবালকের পক্ষে তার মঙ্গলের জন্য চুক্তি করলে তা আইন দ্বারা বলবৎ করা যায়।

৩। নাবালকের ক্ষেত্রে এস্টোপেল নীতি প্রযোজ্য নয়ঃ কোন নাবালক নিজেকে সাবালক বলে দাবী করে চুক্তি করলে তা বলবৎ হয় না। অর্থাৎ নাবালকের ক্ষেত্রে এস্টোপেল নীতি প্রযোজ্য হয় না।

৪। বয়সের দিক দিয়ে আইনগত অবস্থানঃ বাংলাদেশে প্রচলিত চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলে। আবার আদালত কর্তৃক কোন নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত থাকলে উক্ত নাবালকের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক হিসেবে গণ্য হবেন। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যেক নাবালকের চুক্তি প্রথম থেকেই বাতিল বলে গণ্য।

৫। অংশীদার হিসেবে আইনগত অবস্থানঃ অংশীদারী আইন অনুযায়ী কোন নাবালক অংশীদারী চুক্তি করতে পারে না। (অংশীদারী আইন, ধারা-৩০)

৬। প্রতিনিধি হিসেবে আইনগত অবস্থানঃ একজন নাবালক কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে নাবালক কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে না।

৭। শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আইনগত অবস্থানঃ আইন অনুযায়ী নাবালক কোন শেয়ারহোল্ডার হতে পারে না।

৮। প্রতিশ্রুতিগ্রহীতা হিসেবে অবস্থানঃ একজন নাবালক প্রতিশ্রুতি গ্রহণ পারে কিন্তু কোন প্রতিশ্রুতি প্রদান করতে পারে না।

৯। নাবালক কোন সুবিধা ভোগ করলে তা অফেরতযোগ্যঃ নাবালকের চুক্তি শুরুতেই বাতিল। সুতরাং, কোন চুক্তির অধীনে নাবালক সুবিধা ভোগ করলে তা ফেরত সে বাধ্য নয়।

১০। নাবালককে দেউলিয়া ঘোষণা করা যায় নাঃ নাবালকের চুক্তি যেহেতু কোন চুক্তি নয়, সেহেতু তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা যায় না।

১১। সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা যায় নাঃ নাবালক কোন চুক্তি করলে তা যেহেতু বৈধ হয় না সেহেতু চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য তাকে বাধ্য করা যায় না।

নাবালকের চুক্তি সংক্রান্ত বিখ্যাত মামলা- (মহুরী বিবি বনাম ধর্মদাস ঘোষ মামলা)

ধর্মদাস নামক এক নাবালক একটি সম্পত্তি ২০ হাজার টাকায় মহুরী বিবির নিকট বন্ধক রাখে। বন্ধক বাবদ ধর্মদাস মহুরী বিবির নিকট থেকে ৮ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ধর্মদাস উক্ত বন্ধক বাতিল বলে দাবী করে এবং আদালতে মামলা দায়ের করে। অপরদিকে মহুরী বিবি ধর্মদাসকে দেওয়া ৮ হাজার টাকা দাবী করে। এই মামলায় প্রিভি কাউন্সিল সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, বন্ধক দলিল প্রদানের সময় ধর্মদাস নাবালক ছিলো বিধায় চুক্তিটি শুরুতেই বাতিল। অর্থাৎ, মহুরী বিবি তার টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারিণী নয়।

মানুষের দৈনন্দিন জীবনের লেনদেনের ক্ষেত্রে চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পারিবারিক তথা সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তবে এই চুক্তি অবশ্যই আইনসংগতভাবে হতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Lawinfobd.com | About us | Contact us | Privacy
Design & Developed BY kobirtech.com