Warning: Use of undefined constant jquery - assumed 'jquery' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/lawinfob/public_html/wp-content/themes/newsstar/functions.php on line 28
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগের পদ্ধতি কি? - Law Info

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:২১ অপরাহ্ন

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগের পদ্ধতি কি?

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগের পদ্ধতি কি?

garment workers
garment workers

বাংলদেশ শ্রম আইনের ইতিহাস ও ক্রম বিকাশ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়ন করার পূর্বে বাংলাদেশে ৫০টির অধিক শ্রম আইন বিদ্যমান ছিল। এর মধ্যে বৃটিশ আমলে ১৫টি, পাকিস্তান আমলে ২৩টি এবং পরবর্তী বাংলাদেশ আমলে ১২টি শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়। এগুলো অনেক আগের রচিত হওয়ায় বর্তমানের সাথে তা সামঞ্জস্যশীল নয়। অর্থাৎ তাকে সময় উপযোগী বা যুগোপযোগী বলা যেত না। এজন্য সেই আইনে সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন জরুরি হয়ে পড়ে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শ্রম আইনকে আধুনিকায়ন করার উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে শ্রম আইন নতুন করে প্রণীত হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানিগুলোতে শ্রমিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকার, শ্রম আইন-২০০৬ এবং পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৮ সালে তাতে কিছু বিধিমালা সংশোধন ও সংযোজন করে তার আলোকে শ্রমিক নিয়োগ বিধিমালা পূর্ণাংগ করেছেন।

শ্রম আইন অনুযায়ী ‘চাকুরির শর্তাবলী’:

শ্রম আইনের ৩ ধারায় চাকুরীর শর্তাবলী আলোচিত হয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-

১। কোন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় শ্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

২। কোন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকুরীবিধি থাকতে পারে তবে তা শ্রম আইনের কোন বিধানের চেয়ে কম সুবিধার হবে না।

৩। কোন প্রতিষ্ঠান চাকুরীবিধি তৈরি করলে তা প্রধান পরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন। প্রধান পরিদর্শক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে যথাযথ আদেশ দিবেন।

৪। প্রধান পরিদর্শকের আদেশে সন্তুষ্ট না হলে সরকারের নিকট উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। এক্ষেত্রে সরকারের আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

৫। এই বিধান সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

 

সার্ভিস বই সম্পর্কিত বিধানঃ

যে বইয়ে চাকুরীরত ব্যক্তির জীবন বৃত্তান্ত, চাকুরীতে যোগদান, চাকুরীর মেয়াদ, কাজের ধরণ তার ছুটি সহ বিভিন্ন বিষয় সংরক্ষিত থাকে তাকে সার্ভিস বই বলে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৬ ধারা অনুযায়ী সার্ভিস বই সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১। প্রত্যেক মালিক তার নিজ খরচে প্রত্যেক শ্রমিকের সার্ভিস বইয়ের ব্যবস্থা করবেন।

২। সার্ভিস বই মালিকের হেফাজতে থাকবে।

৩। শ্রমিক পূর্বে কোথাও চাকুরী করে থাকলে মালিক পূর্বের সার্ভিস বই তলব করতে পারেন।

৪। মালিক রসিদ প্রদান করে শ্রমিকের পূর্বের সার্ভিস বই নিজ হেফাজতে রাখতে পারবেন।

৫। কোন শ্রমিক সার্ভিস বইয়ের এক কপি নিজে সংরক্ষণ করতে চাইলে নিজ খরচে তা সংরক্ষণ করতে পারবে।

৬। কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান হলে মালিক তার সার্ভিস বই ফেরত দিবেন

৭। এগুলো শিক্ষাধীন, বদলী বা সাময়িক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

 

সার্ভিস বইয়ে যে বিষয়গুলো থাকবে তা হলোঃ  

(১) শ্রমিকের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী/স্ত্রীর নাম)

(২) জন্ম তারিখ

(৩) সনাক্তকরণ চিহ্ন

(৪) পূর্বে কোথাও চাকুরী করলে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা

(৫) চাকুরীর মেয়াদ

(৬) পেশা ও পদবী

(৭) মজুরী ও ভাতা (যদি থাকে)

(৮) ভোগকৃত ছুটি

(৯) শ্রমিকের আচরণ।

লিপিবদ্ধকরণঃ মালিক কোন শ্রমিকের চাকুরীর শুরুতে এবং চাকুরী চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করবেন এবং তাতে শ্রমিক ও মালিক উভয়ে স্বাক্ষর করবেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন আপাতদৃষ্টিতে শুধু শ্রমিকদের কল্যাণে তৈরি বলে মনে করা হলেও এ আইন শ্রমিকপক্ষ ও মালিকপক্ষ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। কারণ এখানে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে যেমন বলা হয়েছে তেমনি অধিকার আদায়ের জন্য অবৈধ পথ অনুসরণ করলে তার জন্য শাস্তিরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা গেলে তা শ্রমিকদের জন্য যেমন কল্যাণকর হবে তেমনি মালিক পক্ষের জন্যও কল্যাণকর হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Lawinfobd.com | About us | Contact us | Privacy
Design & Developed BY kobirtech.com