Warning: Use of undefined constant jquery - assumed 'jquery' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/lawinfob/public_html/wp-content/themes/newsstar/functions.php on line 28
আইন সংক্রান্ত ভ্রম বা অজ্ঞতা কখন ক্ষমাযোগ্য হয়? - Law Info

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:০০ অপরাহ্ন

আইন সংক্রান্ত ভ্রম বা অজ্ঞতা কখন ক্ষমাযোগ্য হয়?

আইন সংক্রান্ত ভ্রম বা অজ্ঞতা কখন ক্ষমাযোগ্য হয়?

ignorance of law
ignorance of law

আইন সংক্রান্ত ভ্রম বা অজ্ঞতা কখন ক্ষমাযোগ্য হয়? কোনো বিষয় বা ঘটনার ভ্রম (অজ্ঞতা) কখন ফৌজদারী দায় হতে অব্যহতি প্রদান করে আর কখন করে না?

আসুন জানি বিস্তারিত-

সকল মানুষ সব আইন জানেন এটি আইনের একটি নীতি। যার ফলে অপরাধ করার পর আদালতে গিয়ে আইন জানা ছিলো না বললেও ক্ষমা পাওয়া যায় না। এমনটি হলে কোন অপরাধেরই বিচার করা সম্ভব হতো না। সকলেই আইন না জানার অজুহাত উপস্থাপন করতো। এজন্য প্রত্যেক মানুষেরই প্রয়োজনীয় আইন জানা উচিত।

আইন সংক্রান্ত অজ্ঞতা ক্ষমাযোগ্য নয়-

প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য আইন জেনে নেওয়া। আইন জানা খুবই সহজ। আইনজীবীদের মাধ্যমে, বিভিন্ন আইনগ্রন্থ পাঠ করে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে আইন জানা এখন কঠিন কোনো বিষয় নয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে প্রণীত আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ জনগণ একটু সচেতন হলেই বা একটু চেষ্টা করলেই আইন সম্পর্কে জানতে পারে। সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয়, সকলে সব আইন জানেন। এজন্য কেউ কোনো অন্যায় করার পর তার ফলাফল সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করলে তা ক্ষমাযোগ্য হয় না। এটি আদালতে গ্রহণীয় নয়।

তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনের অজ্ঞতা ক্ষমাযোগ্য, তা নিচে তুলে ধরলামঃ

১. বিদেশী আইনের ক্ষেত্রে- বিদেশী আইন জানা জরুরী নয়। এক্ষেত্রে বিদেশী আইনের অজ্ঞতা ক্ষমাযোগ্য। তবে বিদেশে বসবাসের ক্ষেত্রে কিংবা পূর্বে দেয়া কোন উৎস থেকে আইন জানার পরও বিদেশে গিয়ে কোনো অপরাধ করলে তার দায় থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব নয়।

২. ভুল আদালতে মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে- কেউ যদি সদবিশ্বাসে ভুলক্রমে ভুল আদালতে মামলা দায়ের করেন তাহলে তা ক্ষমাযোগ্য হতে পারে। [তামাদি আইনের ১৪ ধারা অনুসারে]

৩. বিশেষ কার্যাবলীর ক্ষেত্রে- দন্ডবিধির ৭৬-১০৬ ধারায় বর্ণিত কার্যাবলী অপরাধ হলেও বিশেষ কারণে এই সকল কাজ থেকে অপরাধীকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। যেমনঃ অপকৃতিস্থ ব্যক্তির কার্য, ৭ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক শিশু দ্বারা ঘটিত অপরাধ, আইনানুগ কার্যসম্পাদনকালে ঘটিত দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

 

আইন সংক্রান্ত অজ্ঞতা যখন ক্ষমাযোগ্য তা নিচে তুলে ধরা হলো-

 ১. আইনত বাধ্য মনে করে কোন কাজ করলেঃ যদি কোন কাজ করতে আইনত বাধ্য এরূপ বিশ্বাস করে সম্পাদন করা হয় তাহলে তা অপরাধ বলে গন্য হবে না। [দন্ডবিধি ৭৬ ধারা]

উদাহরণস্বরূপ, আদালত পুলিশ অফিসার ‘করিম’কে নির্দেশ দিল ‘খলিল’কে গ্রেফতার করার জন্য। কিন্তু করিম যথাযথ অনুসন্ধানের পর ‘গফুর’কে গ্রেফতার করল। এক্ষেত্রে করিমের কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

২. আইন সমর্থিত মনে করে কোন কাজ করলেঃ যদি কোন কাজ আইন সমর্থিত বিশ্বাস করে সম্পাদন করা হয় তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। [দণ্ডবিধি ৭৯ ধারা]

যেমনঃ ‘মতি মিয়া’ এমন একটি কাজ করছে যা দেখে ‘করিম’ মনে করলো ‘মতি মিয়া’ কাউকে হত্যার চেষ্টা করছে। ‘করিম’ সদবিশ্বাসে উক্ত অপরাধের জন্য ‘মতি মিয়া’ কে গ্রেফতার করলো এবং থানায় হাজির করলো। এক্ষেত্রে পুলিশ অফিসার ‘করিম’ আইনত কোন অপরাধ করে নি। যদিও পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় ‘মতি মিয়া’ আত্মরক্ষার্থেই কাজটি করেছিলো।

 

উপরোক্ত দুটি বিষয়ের কিছু ব্যতিক্রমও আছে, যেখানে অজ্ঞতায় অপরাধ করেও ফৌজদারি দায় হতে ছাড় পাওয়া যায় না। সেরকম হলো-

১.  নাবালিকার তথ্য অনুযায়ী কাজ করলেঃ কোন নাবালিকার তথ্য অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ করে এবং পরবর্তীতে যদি প্রমাণিত হয় নাবালিকার দেয়া তথ্য ভুল ছিল তবে উক্ত ব্যক্তি সেই কাজের দায় থেকে অব্যহতি পাবে না।

যেমন ধরুন, ‘ফুলি’ নামের একটি মেয়ে নিজেকে সাবালিকা পরিচয় দিল এবং তার সম্মতিতে ‘ইকরামুল’ তাকে বিবাহ করল। পরবর্তীতে ‘ফুলি’র অভিভাবক মামলা করল। এক্ষেত্রে ‘ইকরামুল’ বাল্য বিবাহের দায়ে অপরাধী হবে। কারণ ‘ইকরামুল’ ‘ফুলি’র বয়স সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করলেও আদালতে তা গ্রহণীয় হবে না এবং সে উক্ত অপরাধের ফৌজদারি দায় হতে অব্যহতি পাবে না।

২. কাজের ফলাফলের অজ্ঞতাঃ প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তি তার কাজের ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞাত হবেন এটিই সাধারণ নিয়ম। অর্থাৎ কোন কাজ করলে তার ফলাফল কি হবে এটি প্রত্যেকেই জানে বলে আইন ধরে নেয়। সুতরাং কোন কাজের ফলাফল যদি খারাপ হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে তার দায় গ্রহণ করতে হবে।

যেমন ধরি, ‘সেফুদা’ তার পাখি মারার বন্দুক দ্বারা তারই শিষ্য ‘মফুদা’কে গুলি করল এবং তাতে মফুদার প্রাণপাখি উড়াল দিল। অতঃপর, ‘সেফুদা’ যদি উক্ত কাজের ফলাফল সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে তাহলে আইনে তা গ্রহণীয় হবে না। সুতরাং, সেফুদা দোষী হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

2 responses to “আইন সংক্রান্ত ভ্রম বা অজ্ঞতা কখন ক্ষমাযোগ্য হয়?”

  1. rayhan says:

    vai apnar name akta mamla korbo

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Lawinfobd.com | About us | Contact us | Privacy
Design & Developed BY kobirtech.com