Warning: Use of undefined constant jquery - assumed 'jquery' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/lawinfob/public_html/wp-content/themes/newsstar/functions.php on line 28
হেবা অথবা দান করা সম্পত্তি কি গ্রহীতার মৃত্যুর পর পুনরায় দাতার নিকট ফেরতযোগ্য? - Law Info

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

হেবা অথবা দান করা সম্পত্তি কি গ্রহীতার মৃত্যুর পর পুনরায় দাতার নিকট ফেরতযোগ্য?

হেবা অথবা দান করা সম্পত্তি কি গ্রহীতার মৃত্যুর পর পুনরায় দাতার নিকট ফেরতযোগ্য?

transfer of property
transfer of property

আমরা প্রায় প্রত্যেকেই হেবা অথবা দান করা সম্পত্তির কথা শুনেছি। পিতা তার পুত্রকে বা স্বামী তার স্ত্রীকে হেবা করে সম্পত্তি লিখে দেয়। কিন্ত, ধরুন স্বামী (হাইজ্যাক নিউটন) তার প্রথম স্ত্রী (সালমা বেগম) কে গুলশান এলাকায় ৫ শতাংশ জমি হেবা করে লিখে দেয়ার কিছুদিন পর মারা গেল। মারা যাওয়ার পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী (জরিনা খাতুন) আদালতে হাজির হয়ে আরজি জানালো যে, সে তার মৃত স্বামী হাইজ্যাক নিউটনের সকল সম্পত্তির ভাগ পাবে সাথে সাথে ঐ গুলশানের ৫ শতাংশ জমির ওপর ও তার হক বা অংশ রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, দ্বিতীয় স্ত্রী (জরিনা খাতুন) কি স্বামীর অন্যান্য সম্পত্তির ভাগের সাথে গুলশানের জমি থেকেও ভাগ পাবে? নাকি আদালতের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রী সালমা-কে গুলশানের ঐ জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে? কিংবা গ্রহীতা স্ত্রী সালমার মৃত্যু হলে তার বৈধ উত্তরাধিকারীগণ উক্ত হেবা সম্পত্তির ভোগ-দখল করা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বঞ্চিত হবে?

আসুন জানি বিস্তারিত- আইন এ সম্পর্কে কি বলে?

দান বা হেবা কি?

“হেবা” একটি আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থ দান। ইংরেজিতে একে বলে Gift। ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী-

“কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছা প্রনোদিত হয়ে কোনপ্রকার প্রতিদান গ্রহণ না করে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অপর ব্যক্তিকে হস্তান্তর করলে এবং উক্ত ব্যক্তি তা গ্রহণ করলে তাকে দান বলে।”

বৈধ দানের শর্তঃ

১. দাতাঃ একটি বৈধ দান হতে হলে দাতা থাকতে হবে।

২. দাতা কর্তৃক ঘোষণাঃ যিনি দান করবেন তাকে দানের ঘোষণা করতে হবে।

৩. গ্রহীতা কর্তৃক গ্রহণঃ যার উদ্দেশ্যে দান করা হবে তাকে দান গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ না করা পর্যন্ত তা দান হিসেবে গণ্য হবে না।

৪. দাতা ও গ্রহীতার জীবিত থাকাঃ যিনি দান করবেন এবং যিনি দান গ্রহণ করবেন উভয়কেই জীবিত থাকতে হবে। কোন মৃত ব্যক্তিকে দান/হেবা করা যাবে না।

৫. প্রতিদানের অনুপস্থিতিঃ দান বা হেবা করলে তার বিনিময়ে কোন কিছু গ্রহণ করা যাবে না। কোন কিছু গ্রহণ করলে সেটি দান হয় না।

৬. স্বেচ্ছাপ্রণোদিতঃ দান বা হেবা অবশ্যই স্বেচ্ছায় হতে হবে। কারো প্ররোচনায় বা ভয়-ভীতি ইত্যাদির কারণে দান করলে তা বৈধ হবে না।

৭. সম্পত্তির অস্তিত্বঃ যে বস্তু বা সম্পত্তি দান করা হবে বাস্তবে তার অস্তিত্ব থাকতে হবে। অস্তিত্বহীন কোন সম্পদ দান করা যায় না।

৮. মালিকানাঃ যে বস্তু বা সম্পত্তি দান করা হবে সেই বস্তু বা সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা থাকতে হবে। অন্যের মালিকানার কোন বস্তু দান করা যায় না।

৯. দখল হস্তান্তরঃ দান করার পর সম্পত্তিটির দখল দান গ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করতে হবে। কারণ দান গ্রহীতা গ্রহণ না করা পর্যন্ত তা বৈধ দান হয় না।

দাতার যোগ্যতাঃ

একজন দাতার নিম্নোক্ত যোগ্যতা থাকতে হবে-

১. সাবালক হওয়াঃ যিনি দান করবেন তাকে সাবালক হতে হবে।

২. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়াঃ দাতাকে অবশ্যই সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হবে।

৩. সম্পত্তির মালিক হওয়াঃ যে সম্পত্তি বা বস্তু দান করা হবে দাতাকে তার মালিক হতে হবে।

৪. দাতাকে জীবিত থাকতে হবেঃ যিনি দান করবেন তাকে জীবিত থাকতে হবে।

 

দান বা হেবা দ্বারা কি জীবনস্বত্ব সৃষ্টি করা যায়?

কোন ব্যক্তি যতদিন জীবিত থাকবেন ততোদিন তিনি সম্পদ ভোগ করবেন এই শর্তে কোন স্বত্ব অর্জন করলে তাকে জীবনস্বত্ব বলে। জীবনস্বত্ব একটি শর্তসহকারে দান।

যেমনঃ ‘ক’ একটি জমি তার স্ত্রী ‘খ’ কে দান করলো এই শর্তে যে, যতদিন ‘খ’ জীবিত থাকবে ততোদিন সে দানকৃত সম্পদ ভোগ করতে পারবে তবে ‘খ’ এর মৃত্যু হলে উক্ত সম্পত্তি ‘ক’ এর অনুকূলে ফেরত আসবে। এখানে দানটি বৈধ হলেও শর্তটি আইনসিদ্ধ্ব হয়নি।

উপরোক্ত ক্ষেত্রে দানটি যদি এমন হতো যে, ‘ক’ একটি জমি তার স্ত্রী ‘খ’ কে দান করলো এই শর্তে যে, যতদিন ‘ক’ জীবিত থাকবে ততোদিন সে দানকৃত সম্পত্তি/সম্পদ ভোগ করবে। ‘ক’ এর মৃত্যু হলে উক্ত সম্পত্তি ‘খ’ এর স্বত্বাধীনে চলে যাবে তাহলে দানটিও বৈধ হতো এবং শর্তটি আইনসিদ্ধ হতো।

অর্থাৎ, দানগ্রহীতা দাতার ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পত্তির আয় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রদান করবে এমন শর্ত আইনগতভাবে বৈধ। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর সম্পত্তির স্বত্ব ফিরিয়ে নেয়া আইনগতভাবে বৈধ নয়।  

এর মানে উপরোক্ত ব্যখ্যার আলোকে প্রশ্নের উত্তর হবে-

স্বামী জনাব হাইজ্যাক নিউটন এর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা তার সকল সম্পত্তির ভাগ পেলেও প্রথম স্ত্রী সালমা-কে হেবা/দান করা গুলশানের জমি থেকে কোনপ্রকার ভাগ বা অংশ পাবে না। এবং দাতার/স্বামীর মৃত্যুর পর হেবা করা সম্পত্তি অন্য কারো ভাগে যাবে না অথবা অন্য কেউ তা দাবীও করতে পারবে না। শুধুমাত্র গ্রহীতাই (প্রথম স্ত্রী সালমা) তার ভোগ-দখল করবে। আর সালমার মৃত্যু হলে পরবর্তাতীতে তার বৈধ উত্তরাধিকারীগণ নিশ্চিন্তে উক্ত হেবা সম্পত্তির ভোগ-দখল করতে পারবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Lawinfobd.com | About us | Contact us | Privacy
Design & Developed BY kobirtech.com